কুরআন ও হাদিসের আলোকে হজ্জ
হজ শব্দের অর্থ কি? হজ কাকে বলে? কুরআন ও হাদিসের আলোকে হজ্জ কত প্রকার ও কি কি
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি হলো হজ। এটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা সামর্থ্যবান মুসলমানের উপর জীবনে একবার ফরজ করা হয়েছে। কুরআন ও হাদিসের আলোকে হজের গুরুত্ব, অর্থ এবং প্রকারভেদ সম্পর্কে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
হজ শব্দের অর্থ কি ও হজ কাকে বলে
হজ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো— সংকল্প করা, ইচ্ছা করা বা কোনো মহান উদ্দেশ্যে যাত্রা করা।
পারিভাষিক অর্থে, হজ হলো— আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট নিয়মে পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করা এবং শরীয়ত নির্ধারিত কার্যাবলি (তাওয়াফ, সাঈ, আরাফায় অবস্থান ইত্যাদি) সম্পন্ন করা।
কুরআনের আলোকে হজ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
মানুষের উপর আল্লাহর জন্য এই ঘরের হজ করা ফরজ, যে ব্যক্তি সেখানে পৌঁছার সামর্থ্য রাখে।
— (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)
আরও বলেন:
আর তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে হজ ও উমরাহ পূর্ণ কর।
— (সূরা আল-বাকারা: ১৯৬)
হজ্জ কত প্রকার ও কি কি
হজ্জ মূলত তিন প্রকার:
১. হজ্জে তামাত্তু
২. হজ্জে কিরান
৩. হজ্জে ইফরাদ
নিচে কুরআন ও হাদিসের আলোকে প্রতিটি প্রকার আলোচনা করা হলো—
১) হজ্জে তামাত্তু
হজ্জে তামাত্তু হলো— প্রথমে উমরাহ আদায় করে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়া, তারপর পুনরায় হজের জন্য ইহরাম বাঁধা।
কুরআনের প্রমাণ:
তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি হজের সাথে উমরাহ ভোগ করবে, সে সহজলভ্য কুরবানী প্রদান করবে।
— (সূরা আল-বাকারা: ১৯৬)
হাদিসের প্রমাণ:
হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর সাহাবীদেরকে তামাত্তু হজ করার নির্দেশ দেন, বিশেষ করে যাদের সাথে কুরবানীর পশু ছিল না।
২) হজ্জে কিরান
হজ্জে কিরান হলো— একই সাথে হজ ও উমরাহর নিয়ত করে ইহরাম বাঁধা এবং একসাথে উভয় ইবাদত সম্পন্ন করা।
হাদিসের প্রমাণ:
বিদায় হজে হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজে কিরান হজ আদায় করেছিলেন।
সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে:
‘আমি কুরবানীর পশু সাথে এনেছি, তাই আমি ইহরাম থেকে হালাল হইনি।’
— (সহিহ মুসলিম)
৩) হজ্জে ইফরাদ
হজ্জে ইফরাদ হলো— শুধুমাত্র হজের নিয়ত করে ইহরাম বাঁধা এবং হজ সম্পন্ন করা, এতে উমরাহ অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
বৈশিষ্ট্য:
- এতে কুরবানী বাধ্যতামূলক নয়
- এটি সাধারণত মক্কার নিকটবর্তী বাসিন্দারা বেশি করে থাকেন
হজের গুরুত্ব (হাদিসের আলোকে)
হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেন:
‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করে এবং অশ্লীলতা ও পাপ থেকে বিরত থাকে, সে এমনভাবে ফিরে আসে যেমন তার মা তাকে জন্ম দিয়েছিল।’
— (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
আরও বলেন:
‘এক হজ থেকে আরেক হজের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়।’
— (সহিহ মুসলিম)
উপসংহার
হজ একটি মহান ইবাদত, যা মুসলমানের আত্মিক পরিশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। কুরআন ও হাদিসের আলোকে হজ্জের তিনটি প্রকারই বৈধ, তবে তামাত্তু হজ অধিক সহজ হওয়ায় অধিকাংশ মানুষের জন্য তা উত্তম।
আমাদের উচিত হজের সঠিক বিধান জানা এবং তা আন্তরিকতা ও একনিষ্ঠতার সাথে আদায় করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হজ পালনের তাওফিক দান করুন। আমীন।
